1. bdculture2020@gmail.com : bdculture :
এ্যাকোস্টিকা লাইভে এবারের অতিথি দুই বাংলার রকস্টার 'সাকী' - BD CULTURE
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন

এ্যাকোস্টিকা লাইভে এবারের অতিথি দুই বাংলার রকস্টার ‘সাকী’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
দুই বাংলার রকস্টার 'সাকী'
তানজীর আহমেদ শুদ্ধ’র উপস্থাপনায় এ্যাকোস্টিকা লাইভ শো ইতোমধ্যে জনপ্রিয় ব্যান্ড সংগীতের আসরে পরিনত হয়েছে। এ্যাকোস্টিকা ও হেবি মেটাল টিশার্ট এর  যৌথ আয়োজনে জনপ্রিয় ব্যান্ড নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে এ্যাকোস্টিকা লাইভ আয়োজন করে যাচ্ছে।  ২২ সেপ্টেম্বর দুই বাংলার জনপ্রিয় শিল্পী সাকী কে নিয়ে লাইভ আয়োজন করার কাজ চলছে। এই আয়োজনে সহযোগী হিসেবে আছে দেশের ব্যান্ড মিউজিকের ভক্ত ও শ্রোতাদের ৬ টি বড় ফেসবুক গ্রুপ। গ্রুপ গুলো হলো ১. বাংলাদেশী ব্যান্ড মিউজিক ফ্যান্স কমিউনিটি, ২, ব্যান্ড মিউজিক এডমেয়ার এসোসিয়েশন ৩. হেবি মেটাল লিরিক এন মিম হাব, ৪. বাংলাদেশী ব্যান্ড মিউজিক সোসাইটি ৫. বাংলা ব্যান্ড মিউজিক প্লেলিস্ট ৬. বাংলা ব্যান্ড মিউজিক গ্রুপ এবং ফুড পার্টনার হিসেবে আছে বার্গাজম। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে আছে বিডিকালচার২৪.কম। ভারত থেকে আছে ‘ইভেন্ট হাট’ ।
 চলুন সাকী’র মিউজিক্যাল বায়োগ্রাফি নিয়ে বিডিকালচার২৪.কম এর পাতায় বিস্তারিত জেনে নিই…

প্রশ্ন:আপনার শৈশব?

উত্তর:শৈশব নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই।বারো বছর বয়সে বাড়ি পালাই।বাড়ি পালিয়ে তিন বছর ছিলাম এক সুফির কাছে,যার নাম হলো মহম্মদ সাঁই।তারপর কোলকাতায় ফিরে আসি এবং বিভিন্ন রকম পেশার কাজে যুক্ত হ‌ই,কখনো খবরের কাগজ বিক্রি,কখনো ডোর টু ডোর সেল্সম্যানের কাজ,কখনো ফুটবল খেলি। এইভাবেই আমার শৈশব এবং জীবনের একটা বড় অংশ কেটেছে দূরে দূরে ঘুরে ঘুরে।

প্রশ্ন: শিক্ষা জীবন?

উত্তর: আমি ক্লাশ টেন পাশ।তারপর অর্থের অভাবে আমি স্কুল বা কলেজের পড়াশোনা শেষ করতে পারিনি।তবে আমার একটা নিজস্ব পড়াশোনা অনেক দিন ধরে এবং সারাজীবন ধরেই চলে আসছে এবং সেই পড়াশোনার মাধ্যমেই আমি আমার জীবন কে এগিয়ে নিয়ে এসেছি।

প্রশ্ন: সঙ্গীতে আপনার আগমন কিভাবে?

উত্তর:আমার বাবা ছিলেন একজন সঙ্গীত পরিচালক এবং গীতিকার। ছোটোবেলায় বাবাকে দেখে খুব ইন্সপায়ার্ড হ‌ই। পরবর্তীকালে যখন আমি বিভিন্ন জায়গায় স্ট্রাগল করছি তখন বাবা আমাকে বলেন,তুমি সঙ্গীত কে তোমার প্রধান জীবিকা হিসাবে নাও,তুমি পারবে।এছাড়া আমার ভাই আমায় প্রস্তাব দেয় যে তার‌ ব্যান্ডে ভোকালিস্ট এবং গীতিকার হিসাবে জয়েন করার জন্য।সেখান থেকেই ধীরে ধীরে আমার সঙ্গীতে আগমন।

প্রশ্ন: পরিবার থেকে গান করার জন্য সমর্থন ছিলো কি?

উত্তর: আমার মায়ের পরিবার একটু রক্ষনশীল।তারা প্রথমে এটা অপছন্দ‌ই করেছিলো।বাবা এবং ভাই কিন্তু সবসময়ই আমায় সাপোর্ট করে এসেছে।আমার ভাই এবং বাবার সেই সাপোর্টেই আমি মিউজিকটা কে পেশা হিসাবে বেছে নেওয়ার সাহস পাই,তাদের সমর্থন সারাজীবন‌ই ছিল এবং আজকের দিনে দাঁড়িয়ে পরিবারের সবাই সমর্থন করেন।

প্রশ্ন:পেশা হিসাবে কি গান‌ই করেন নাকি পাশাপাশি অন্য কিছু?

উত্তর:আমি শুরু করেছিলাম অ্যাজ এ সং রাইটার তারপর অ্যাজ এ ব্যান্ড আর্টিস্ট তারপর সঙ্গীত পরিচালক তারপর অথার।আমার সদ্য একটি ব‌ই নৈঋতা ক্যাফে থেকে রিলিজ করেছে,ব‌ইটির নাম ‘শহরের ভীতর দিকের খবর’।এই ব‌ইটিতে আপনারা আমার প্রকাশিত এবং অপ্রকাশিত গান এবং কবিতা পড়তে পারবেন।এগুলোর বাইরেও আমি অভিনয় করি।আমি কিছুদিন আগে ‘কন্ট্রাক্ট’ ওয়েব সিরিজে ‘লেডি গিয়াস’ চরিত্রে অভিনয় করি।ঐ স্বল্পক্ষণের চরিত্রটি আমায় বাংলাদেশের মানুষের কাছে অনেক পরিচিত করে তোলে। সুতরাং সেভাবে দেখতে গেলে সঙ্গীত ছাড়াও আমি অনেকরকম কাজের সাথে যুক্ত।

প্রশ্ন:ব্যান্ড মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে আসার গল্পটা কি?আপনার ব্যান্ডের গল্পটা?

উত্তর:ছোটোবেলা থেকেই প্রচুর ব্যান্ডের গান শুনতাম ভালো লাগার জায়গা থেকেই।বিভিন্ন জায়গায় আমায় ব্যান্ডের ভোকালিস্ট না থাকলে ডেকে নিয়ে যাওয়া হতো তাদের প্রক্সি হিসাবে আমি সেই গানগুলো গাইতাম।এইভাবেই আমার ব্যান্ডের মিউজিকের প্রতি ভালোবাসা বাড়তে থাকে এবং আস্তে আস্তে আমার ভাইয়ের ব্যান্ডে জয়েন করার পর থেকে আমি ব্যান্ড কে সিরিয়াসলি নিই।

প্রশ্ন: ওপার বাংলার সাথে আপনার মিউজিক নিয়ে পথচলার গল্পটা কি?

উত্তর:আমি অনেকগুলো ব্যান্ডের সাথে কাজ করেছি,যেমন,প্রথম যে ব্যান্ডটির সাথে আমি কাজ করেছি তার নাম ছিল উইন্ড্স,  পরবর্তী যে ব্যান্ড তার নাম ছিল আমার তৈরি করা আমার ভাইয়ের ব্যান্ড ফেরিন দ্য ইস্তেহার তারপর আমি রাগাজ বলে একটি ব্যান্ডে বছর তিনেক গান গাই।রাগাজের পর আমরা কয়েকজন বন্ধুরা মিলে জয়েন করি সিক্সথভেদা এবং সিক্সথভেদায় তখন খুবই ছোট্ট ছোট্ট ছ’জন ছেলেরা মিলে নিজে গান লিখে সুর করে আমরা ব্যান্ডের সাথে ট্যুর করতাম।সিক্সথভেদার পর আমার সবচেয়ে সিগনিফিকেন্ট ব্যান্ড‌ ছিল ভারতবর্ষ। ভারতবর্ষের অ্যালবাম জি-সিরিজ এও পাওয়া যায়। ভারতবর্ষের পর আসে আমার একক সোলো   লাইন‌আপ তার নাম ছিল শুধু সাকী তার পরবর্তীকালে আমি কাজ করি ক্যাকটাসের সাথে অ্যাজ এ ভোকালিস্ট,কম্পোজার,সং রাইটার।এখন আমি বাংলাদেশে একটি ব্যান্ড ফর্ম করেছি,ব্যান্ডটির নাম ব্রহ্মপুত্র  যেটি খুব তাড়াতাড়ি তাদের প্রথম গান প্রকাশনা করবে এবং আমি একটি সুপারগ্রুপের সাথেও যুক্ত যেটির নাম হলো মারীচ।

প্রশ্ন: যারা ব্যান্ড মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে আসতে চান তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

উত্তর:ব্যান্ড মিউজিকে যারা আসতে চান তাদের পরামর্শ হলো এটাই যে,প্রচুর পড়তে হবে।কবিতার ব‌ই পড়তে হবে গান লেখার জন্য,গল্পের ব‌ই পড়তে হবে গান লেখার জন্য।শব্দ বুঝতে হবে,বাক্য বুঝতে হবে এবং একটা বেসিক ট্রেনিং সবসময় নেওয়া জরুরি, আমি যেটা পরবর্তীকালে নিয়েছি।আমি ২০১৩ সালে কেরিয়ারের প্রায় নয়বছর ক্রস করার পর কুমার মুখার্জির কাছে ইস্টার্ন ক্লাসিক্যাল এর তালিম নিই।এছাড়াও ব্যান্ড মিউজিকে আসতে গেলে এই যে যাপন অর্থাৎ আমরা যখন ব্যান্ড করি তখন আমরা কেউ ন‌ই,কারো বাবা,ভাই,বোন কেউ ন‌ই।আমরা তখন শুধুই একজন রক্ মিউজিশিয়ান।এই যাপন টা খুব দরকার।প্রত্যেকের ভীতরে সেই রক্ বোধটা কাজ করে।আমাদের প্রত্যেকের ভীতরে সেই সাঙ্গীতিক বিপন্নতা কাজ করে।এই রক্ বোধ টা যাদের ভীতর আছে যারা এই রক্ বোধটা নিয়ে যাপন করতে পারে।ব্যান্ড মিউজিক টা একটি যাপনের বিষয়।এই যাপন যদি আপনি সারাজীবন যাপন করতে পারবেন বলে মনে করেন,সেই কনফিডেন্স আপনার থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যান্ড মিউজিকে আপনি আসুন।অসীম ধৈর্য্য লাগবে,অনেক স্ট্রাগল থাকবে অনেক ফেইলিওর  থাকবে,অনেকবার হেরে যেতে হবে।আমরা অনেক হেরে তবেই জিততে শিখেছি।অনেক হেরে না গেলে জেতার আনন্দ পাওয়া যায়না।অনেক ধৈর্য্য লাগবে, ব্যান্ড মিউজিক বা আর্ট ফর্মে কাজ করার  প্রধান শর্ত হচ্ছে টেস্ট ম্যাচের মতো।আপনাকে লেগে থাকতে হবে,আপনি যদি লেগে থাকতে পারেন টানা দশটা বছর  এবং আপনি আপনার কাজ যদি নিয়মিত করে যেতে পারেন তবেই এই পথটা বাছুন। অনুশাসন খুব দরকার।আপনাকে ডিসিপ্লিন্ড হতে শিখতে হবে।এগুলো করলেই আমার মতে আপনি ব্যান্ড মিউজিকে সফল হতে পারবেন।
তানজীর আহমেদ শুদ্ধ’র উপস্থাপনায় এ্যাকোস্টিকা লাইভ শো ইতোমধ্যে জনপ্রিয় ব্যান্ড সংগীতের আসরে পরিনত হয়েছে। এ্যাকোস্টিকা ও হেবি মেটাল টিশার্ট এর  যৌথ আয়োজনে জনপ্রিয় ব্যান্ড নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে এ্যাকোস্টিকা লাইভ আয়োজন করে যাচ্ছে।  ২২ সেপ্টেম্বর দুই বাংলার জনপ্রিয় শিল্পী সাকী কে নিয়ে লাইভ আয়োজন করার কাজ চলছে। এই আয়োজনে সহযোগী হিসেবে আছে দেশের ব্যান্ড মিউজিকের ভক্ত ও শ্রোতাদের ৬ টি বড় ফেসবুক গ্রুপ। গ্রুপ গুলো হলো ১. বাংলাদেশী ব্যান্ড মিউজিক ফ্যান্স কমিউনিটি, ২, ব্যান্ড মিউজিক এডমেয়ার এসোসিয়েশন ৩. হেবি মেটাল লিরিক এন মিম হাব, ৪. বাংলাদেশী ব্যান্ড মিউজিক সোসাইটি ৫. বাংলা ব্যান্ড মিউজিক প্লেলিস্ট ৬. বাংলা ব্যান্ড মিউজিক গ্রুপ এবং ফুড পার্টনার হিসেবে আছে বার্গাজম। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে আছে বিডিকালচার২৪.কম। ভারত থেকে আছে ‘ইভেন্ট হাট’ ।
 চলুন সাকী’র মিউজিক্যাল বায়োগ্রাফি নিয়ে বিডিকালচার২৪.কম এর পাতায় বিস্তারিত জেনে নিই…

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Categories

© All rights reserved © 2019 bdculture
                          কারিগরি সহায়তায় রাফিউল ইসলাম