1. bdculture2020@gmail.com : bdculture :
১৫ ই আগস্টের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি - BD CULTURE
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন

১৫ ই আগস্টের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১
বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ
পদ্মা-মেঘনা-যমুনায় প্রবাহিত হয় বঙ্গবন্ধু রক্তের স্রোত। এ রক্ত যেন কোনদিনও শেষ হবার নয়।
বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু মানেই বাঙালি জাতিসত্তা। খুনীরা তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে ওরা বাঙালি জাতিকে খুন করলো। বাংলার আকাশ, বাংলার মাটি, বাংলার সব কিছুই যেন বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে।  এই ভালোবাসা চিরতরে স্তব্ধ করতেই তারা বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা, শেখ নাসের,শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ মনি সহ সকলকে হত্যা করল।
একটি বাংলাদেশ ৫৬ হাজার বর্গমাইল যার আনাচে কানাচে সর্বস্থানে জয় বাংলা ধ্বনিত হত। ১৭৫৭ সালে বাংলার আকাশে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। প্রায় ২০০ বছর ব্রিটিশ বাংলাদেশকে শাসন করেছে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ত্যাগ করে এবং দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দুটি রাষ্ট্রের গঠন হয়। ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের সাথে বাঙালি জাতিকে আবার পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ করা হয়।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন চিন্তা করলেন আমার বাঙালি জাতির মুক্তি হয়নি। ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি মাসে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে ধীরে ধীরে ন্যায্য অধিকারের আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগ কাজ করতে থাকে। ১৯৪৯ সালে ২৩ জূন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গঠন করেন। ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে ছাত্রলীগের সালাম,জব্বার, বরকতসহ অনেকে প্রাণ বিসর্জন দেন। বঙ্গবন্ধুর জেল থেকে অনশন করেন। বারবার বঙ্গবন্ধু কারা নির্যাতিত হয়েছেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার শিকার হয়েছেন। এমনকি তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তার বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য নিজের জীবনের সমস্ত সুখ আনন্দ ত্যাগ করে, বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে চেয়েছিলেন।
এভাবে ২৩ বছর বিভিন্ন সংগ্রাম আন্দোলনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ৭০ এর নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি ক্ষমতায় বসতে পারেননি। বাংলার মানুষের অধিকার আদায় করতে দেয়নি পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক নেতা ইয়াহিয়া খানসহ অন্যান্য নেতারা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাবে নির্বাচনে জয়লাভ করে। জয়লাভ করার পরে তারা নানান টালবাহানা শুরু করে।
৭ ই মার্চ তৎকালীন (রেসকোর্স ময়দান)সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাঙালির মুক্তির মূলমন্ত্র ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “তোমাদের যার কাছে যা কিছু আছে,তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।” “তোমরা ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলো”  ” এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
দীর্ঘ নয় মাস পরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ শহীদ ও ৪ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী রাখল এবং নানান রকমের নির্যাতন করেছিল। এমনকি তার সামনে কবর খুঁড়ে বঙ্গবন্ধুকে ভয় দেখিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, মরে যাব তাতে দুঃখ নাই। আমার বাঙ্গালী জাতির সঙ্গে বেঈমানি করতে পারব না। আমাকে মেরে ফেলো শুধু আমার লাশটা আমার বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিও।
সেদিন বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের শাসকরা মারতে পারেনি। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট নিজের দেশের কিছু বেঈমান মীরজাফর বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সপরিবারে।
দেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধু রাজশাহীর একটি ভাষণে বলেছিলেন আমি কি চাই ? আমি চাই বাংলার মানুষ হাসুক, বাংলার মানুষ খেলুক, বাংলা মানুষের পেটপুরে খাক, শান্তিতে থাক।
আমি কি চাই ? এভাবেই তিনি সাতবার বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধু সমস্ত চিন্তা-চেতনায় ছিল বাংলার মানুষকে ঘিরে। দুঃখী মানুষ হাসবে। সে চিন্তায় তিনি সবসময় করতেন। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোয় ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রধান চিন্তা চেতনা।
কুমিল্লা মিলিটারি ট্রেনিং সেন্টারের ভাষণে তিনি বলেছিলেন সেনা অফিসারদের উদ্দেশ্য করে- তোমরা বড়দের শ্রদ্ধা করবে,ছোটদের স্নেহ করবে। শৃঙ্খলা মেনে চলবে। তোমরা একদিন দেশ এবং দেশের বাইরে অনেক সুনাম করবে ইনশাআল্লাহ।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন, তিনি বলেছিলেন পাকিস্তানিরা সব নিয়ে গেছে,শুধু চোরদের রেখে গেছে। এই চোরদের নিয়ে গেলে আমি বাঁচতাম।
তিনি আমলাদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন,ঐ গরিব কৃষকের মায়নায় আপনি চলেন। গরিব কৃষকের টাকায় আমি গাড়িতে চড়ি ।ঐ গরিব কৃষক ফসল ফলায় তাই আমরা খাই। ঐ গরিব মানুষকে আপনারা সম্মান করে কথা বলবেন।
প্রত্যেক বক্তৃতায় প্রতিটি লাইন বাংলার মানুষের কথা। বাংলার দুঃখী মানুষের শান্তির কথা। বাংলার দুঃখী মানুষের ভবিষ্যতের কথা। বাংলার মানুষ কিভাবে শান্তিতে থাকবে, সারা জীবন তিনি এই চিন্তায় করে গেছেন।
কিন্তু কিছু বিশ্বাসঘাতক দেশকে ধ্বংস করতে, জাতিকে ধ্বংস করতে, দেশকে হাজার বছর পিছিয়ে দিতে শত্রুর হাতে হাত মিলিয়ে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় মেতে ওঠে। ধিক্কার জানাই কাপুরুষদের। একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সকল পরিকল্পনাকারী এবং হত্যাকারীদের ফাঁসির কাঠে ঝুলানো জোর দাবি করছি।
বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলার নেতাই ছিলেন না, তিনি সারা বিশ্বের নেতা ছিলেন।  তিনি বলেছিলেন পৃথিবীতে আজ দুই ভাগে বিভক্ত, শাসিত ও শোষিত। আমি শোষিতর পক্ষে। এ কারণে তৎকালীন কিউবার নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো বলেছিলেন,” আমি হিমালয় দেখিনি, আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি।”
ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে এতটাই ভয় পেত যে, তাই সেদিন বঙ্গবন্ধুকে খুন করতে নীলনকশা হিসেবে বঙ্গবন্ধুসহ সপরিবারের সকলকে হত্যা করে, হত্যা করে ছোট্ট শিশু রাসেলকে। হত্যা করে সুলতানা কামালকে, হত্যা করে অন্তঃসত্ত্বা আরজু মনিকে, হত্যা করে নববধূ রোজী জামালকে। হত্যা করে ১১ বছরের শিশু বেবিকে। হত্যা করা সেরনিয়াবাতকে, হত্যা করা হয় বেগম বেগম সেরনিয়াবাতকে ।একে একে পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করে।
প্রাণে বেঁচে যায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নদ্রষ্টা দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহেনা। দেশের বাইরে থাকায় দুই বোন প্রাণে বেঁচে যান।  জননেত্রী শেখ হাসিনা তিনি বুকের মাঝে চাপা কষ্ট নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে প্রতিনিয়ত মানুষের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
আজ তার বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে মধ্যম আয়ের দেশ। তৎকালীন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে অল্পদিনেই বঙ্গবন্ধু একটি সুন্দর কাঠামো দার করেছিলেন। সেই কাঠামোর উপর ভিত্তি করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন।
বঙ্গবন্ধুর হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়া হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখে।
সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাঁচাতে ইনডেমনিটি জারি করে বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করেছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি বাতিল করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার কাজ শুরু করেন।খুনিদের ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলান।
সবথেকে দুঃখের বিষয় হচ্ছে  ১৯৭৫ সালের পরে দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধুর বিচারকার্য শুরু হল। এর মাঝে যারা ছিল তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনি ছিল। তাই তারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে তারা বঙ্গবন্ধুর হত্যার কোনো বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেননি।
বরং তাদেরকে তারা আস্কারা দিয়েছিল। শুধু তাই নয় খুনীদেরকে বিভিন্ন পুরস্কারে পুরস্কৃত করেছিল। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তাদেরকে পরবর্তীকালে মন্ত্রী পর্যন্ত করেছিল। বাংলাদেশে দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষ আছে স্বাধীনতার পক্ষে এবং অপর পক্ষ হচ্ছে স্বাধীনতার বিপক্ষে। স্বাধীনতার বিপক্ষরাই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু হত্যা করেছিল। আজও তারা নানান ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু মহান আল্লাহতালার রহমতে তিনি আবার প্রাণে বেঁচে যান। এছাড়াও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বার হত্যা করতে চেয়েছিল কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে ?
বাঙালি জাতির মনে এখনো দাগ কেটে যায়। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা এখনো বিদেশে পালিয়ে আছে। যারা দেশের বাহিরে পালিয়ে আছে, তাদেরকে অবিলম্বে দেশে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। তবেই বাঙালির মন থেকে দুঃখমোচন হবে।
“যতদিন রবে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, গৌরী বহমান, ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।”
কাজী আনিসুর রহমান তৈমুর
সদস্য
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি
১৭ আগষ্ট ২০২১
ঢাকা

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Categories

© All rights reserved © 2019 bdculture
                          কারিগরি সহায়তায় রাফিউল ইসলাম