1. bdculture2020@gmail.com : bdculture :
বরফের মহাদেশ আ্যন্টার্কটিকা - BD CULTURE
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

বরফের মহাদেশ আ্যন্টার্কটিকা

মেফ্তাহুল জান্নাত
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১
আ্যন্টার্কটিকা মহাদেশ
কমলালেবুর মতো দেখতে পৃথিবীপৃষ্ঠের সর্ব তলদেশে অবস্থিত মহাদেশ “আ্যর্টেকটিকা”।আর ত্রিমাত্রিক সমতলে আঁকা বিশ্ব মানচিত্রে এ মহাদেশের অবস্থান সর্ব দক্ষিনে অবস্থিত।স্বাভাবিকভাবেই পৃথিবীর চুম্বকীয় আবেশের দক্ষিণ মেরুটিও এই মহাদেশে অবস্থিত। আয়তনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে মহাদেশ গুলোর মধ্যে এটি পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।কিন্তু অন্যান্য অনেক কারণে  মহাদেশ গুলোর তালিকায় প্রথম অবস্থান টি এই আ্যর্টেকটিকা এর ই দখলে।এটি একধারে শীতল এবং শুষ্কতম স্থান।এই মহাদেশ বিশ্বের বরফ হিসেবে জমাটবদ্ধ সু পানীয় পানির শতকরা প্রায় ৯০ ভাগই এখানে বিদ্যমান।আ্যার্টেকটিকা এর এমন অর্জনের তালিকা যেমন বেশ দীর্ঘ অন্যদিকে বিশ্বের মহাদেশ গুলোর মধ্যে দুর্গমতম দেশ হওয়ায় এই স্থানটিকে ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় গুজবেরও কমতি নেই। অনেকে মনে করে থাকে এটি পৃথিবীকে ঘিরে রাখা একটি বরফের একটি দেওয়াল মাত্র। দুর্গম এবং রহস্যময় এই আর্টেকটিকা সম্পর্কে পরীক্ষিত সকল তথ্য অনুযায়ী এটি সার্দান সাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত। মোট আয়তন ‘এক কোটি কুড়ি লাখ’ বর্গ কিলোমিটার বা ৫৫ লাখ বর্গ মাইল। অর্থাৎ আয়তনে এটি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের  প্রায় দ্বিগুণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দেড় গুণ বড়।আয়তনের হিসেবে পঞ্চম অবস্থানে থাকা এই আ্যার্টেকটিকা বরফের চাদরে ঢাকা।
স্থলভাগের উপর বরফ এর উচ্চতা অন্য জায়গায় প্রায় তিন মাইল।তবে, এখানে এর গড় উচ্চতা প্রায় দুই কিলোমিটার বা সাড়ে ছয় হাজার ফুট।বর্তমান এই স্থানটির চেহারা দেখে মনে হবে অনন্ত কাল ধরে এটি বরফে আচ্ছাদিত! কিন্তু প্রায় ১৬ কোটি বছর আগেও মহাদেশটির অবস্থান ছিল বিষুব বিষুবরেখার কাছাকাছি অবস্থানে ছিলো।সে সময়ে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মহাদেশ বেঞ্জিয়ে নামক একটি সুপার কন্টেটের  অংশ হিসেবে এটি ছিল। তখন এটি ছিল ঘন বনে পুরোটাই ঢাকা।তখন এখানে ডাইনোসর ঘুরে বেড়াতো বলে অনুমান করা হয়।১৬ কোটি বছর আগে  বেনজিয়া ভেঙ্গে আ্যার্টেকটিকা দক্ষিণ দিক থেকে যাত্রা শুরু করে।এরপর বারো কোটি বছর এ মহাদেশ জুড়ে প্রায় বারো প্রজাতির উদ্ভিদ এর উদ্ভব হয়েছে।এখানে বরফ জমা শুরু হয়েছে প্রায় তিন কোটি বছর আগে। তবে বর্তমান চেহারায় আসতে আ্যার্টেকটিকা এর সময় লাগে আরো দুই কোটি বছর।তবে পৃথিবীর স্থলভাগের এ অঞ্চলটি মানুষের নজরে এসেছিল সবার পরে।
১৮২৪ সালে রুশ অভিযাত্রী  ও অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কারের কৃতিত্বধারী জেমস ক্রুশ ১৭৭২ থেকে সতেরোশো পঁচাত্তর সালের মধ্যে অন্তত চারবার আর্টিক টিকা কে ঘিরে থাকা সাগর পাড়ি দেন।তবে আরটিকা থেকে দক্ষিণে যাওয়া কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি।”আঠারোশো” সালে এটি আবিষ্কারের পর আরো অন্তত ৭৫ হাজার বছর বছর এ মহাদেশের স্থলভাগে কোন মানুষের পায়ের ছাপ পড়েনি ।
একমাত্র আ্যার্টেকটিকা ই এমন একটি স্থান, যেখানে মানুষের কোনো বসবাস নেই।তাই জনপদ ও রাষ্ট্রও এতে গড়ে ওঠেনি।এখানে ১৯৫৯ সালে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী আ্যর্টিকটিকা শুধুমাত্র বিভিন্ন গঠনমূলক ও বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ডের দেশ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে রয়ে যাবে।এই আইন কার্যকর হয় ১৯৬১ সালে।এই স্বাক্ষর নামাই তখন স্বাক্ষরকারী দেশ সংখ্যা ছিল বারো টি দেশ।আ্যর্টেকটিকার প্রতিটি স্থানে স্থানে এই বারো টি দেশের প্রায়  অর্ধশতাধিক গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে।তবে বর্তমানে স্বাক্ষরকারী দেশ এর পরিমাণ ৫৫ টি।এতে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন করা হয়ে থাকে।এদেশের এক মাথা থেকে আরেক মাথা দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।ট্রান্স পাহাড়ের পূর্বে রয়েছে ইস্ট আ্যর্টিকটিকা।ইস্ট পাহাড়ের পশ্চিমে রয়েছে ওয়েস্ট আ্যার্টেকটিকা।ইস্ট আ্যার্টেকটিকা আয়তনের বিচারে ওয়েস্ট আরটিকা থেকে গুন বড়।জমে থাকা বরফের ৭০ ভাগই রয়েছে ইস্ট আ্যার্টেকটিকাতে।
১৯৩০ সালের ২১ জুলাই রুশ গবেষণা কেন্দ্র তে এর তাপমাত্রা ধারণ করা হয়েছিল।এর সাধারণ তাপমাত্রা ৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের কাছাকাছি।সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১৫ এর মধ্যে ওঠানামা করে।এখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ গড়ে চার মিলিমিটার।আ্যার্টেটিকা কে মূলত পৃথিবীর “ডিপ ফ্রিজ ” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।এখানে সঞ্চিত পানির ৯০ ভাগই বরফ হিসেবে জমা আছে।ধারণা করা হয় যে এই বরফ গলে গেলে পৃথিবীতে পানির পরিমাণ বিশ মিলিমিটার ৬২ ফিট এর মত বৃদ্ধি পাবে।যেটাতে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান এবং দেশ বিলীন হয়ে যাবে।তাই এখানকার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পৃথিবীর জন্য অনেক বড় হুমকির মতো ।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Categories

© All rights reserved © 2019 bdculture
                          কারিগরি সহায়তায় রাফিউল ইসলাম