1. bdculture2020@gmail.com : bdculture :
প্রশান্ত মহাসাগর - BD CULTURE
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

প্রশান্ত মহাসাগর

মেফ্তাহুল জান্নাত
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৬ জুলাই, ২০২১
প্রশান্ত মহাসাগর
বৃহত্তম সাগর সমুহের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগর অন্যতম। এর বিশালত্বতার সম্পর্কে আমরা প্রায় সবাই জানি। আয়তনের দিক থেকে সব থেকে বড় প্রশান্ত মহাসাগর  পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের মোট স্থলভাগের চাইতেও বড়। বিশ্বের বৃহত্তম জলাধার সুবিন্যাস্ত আধার এই প্রশান্ত মহাসাগর।এটি প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বর্গমাইল।পৃথিবীর সব স্থলভাগের আয়তন যোগ করলে দাঁড়াবে প্রায় পনেরো কোটি বর্গ কিলোমিটার।অর্থাৎ পৃথিবীর মোট স্থলভাগের পুরোটাই ডুবে দেওয়া যাবে এটির জলপ্রবাহ দ্বারা।
পূর্ব আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়া মহাদেশের পুরোটা জুড়েই প্রশান্ত মহাসাগরের অংশ পাঁচ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ বরাবর।এই মহাসাগরের বিস্তৃতি সবচেয়ে বেশি  ইন্দোনেশিয়া থেকে শুরু করে কলম্বিয়া উপকূল পর্যন্ত।ওই এলাকার দৈর্ঘ্য প্রায় কুড়ি হাজার কিলোমিটার।অর্থাৎ এরমধ্যে পাঁচটি চাঁদকে অনায়াসেই ডুবিয়ে দেওয়া সম্ভব।একইভাবে উত্তরের আটলান্টিক সাগর থেকে শুরু করে দক্ষিণ পর্যন্ত এই প্রশান্ত মহাসাগরের অংশ পানির গড় ঘনত্ব  প্রায়  শাড়ি একাত্তর কোটি ঘন কিলোমিটার বা ১৭ কোটি ঘনমাইল।
তাপমাত্রা মেরুর কাছে এক ইস্টু চার ডিগ্রি থেকে শুরু করে বিশ্ব বিষুবীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।এর লবণাক্ততা বিভিন্ন ক্ষেত্র বিশেষে পরিবর্তিত হতে থাকে। বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী প্রতি হাজার  সর্বোচ্চ  ৩০ থেকে ৩২ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠানামা করে।প্রাচীন প্রাগৈতিহাসিক সময়কাল থেকেই মানুষ প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে এসেছে।কমপক্ষে ৪৫ হাজার বছর আগে প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত পদার্পণ করেছিল মানুষ।আনুমানিক তিন হাজার সাল নাগাদ  এটি পাড়ি দিয়ে ফিলিপাইন  ইন্দোনেশিয়া এবং বহু স্থানে অধিবাসীদের সাথে ব্যবসার নজির রয়েছে।ধীরে ধীরে এটি আফ্রিকা থেকে জাপান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।
প্রশান্ত মহাসাগরের গড় গভীরতা প্রায় চার হাজার মিটার বা চার কিলোমিটার। তবে পৃথিবীজুড়ে দশটি গভীরতম বিন্দুর পাঁচটি এখানে অবস্থিত এবং সবগুলোর গভীরতা দশ হাজার মিলিমিটার বা দশ মিলিয়নের বেশি।  বিশ্বের বৃহত্তম  জলরাশি টি ঘিরে রয়েছে প্রায় অর্ধশত স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ,যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া,কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া,থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ইত্যাদি।এছাড়া চীনের দখলেও এর কিছু অংশ রয়েছে।প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে প্রায় পঁচিশ হাজারেরও বেশি দ্বীপ। পৃথিবীর আর কোনো স্থানে এত বেশিসংখ্যক দ্বীপের অবস্থান নেই। প্রশান্ত মহাসাগরের শান্তিময় হাওয়ার জন্য প্রাচীনকালের মানুষ শান্তির সাগর বলে অভিহিত করতেন।পরে তা প্রশান্ত মহাসাগর নামকরণের রূপ নেয়।কিন্তু জলরাশি টির নাম প্রশান্ত মহাসাগর হলেও, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি,  সামুদ্রিক ঝড় ও সুনামির মতো বিপদজনক দুর্যোগে এর জুড়ি মেলা ভার।পূর্ব প্রদেশের উৎপন্ন ঝড়গুলো হ্যারিকেন নামে পরিচিত। এটি পশ্চিম ও দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানে।
অন্যদিকে উত্তর পশ্চিমের ঝড়গুলো জাপান অথবা পূর্ব এশিয়া দেশগুলোকে আঘাত হানে।শুধু তাই না এটির বিশাল একটি অংশ জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বা ২৫ হাজার মাইল আগ্নেয়গিরির একটি প্লান্ট।এতে ৭০ ভাগ আগ্নেয়গিরির অবস্থান। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের ২ বছর অন্তর অন্তর ১ বর্গকিলোমিটার করে কমে যাচ্ছে ও এর বিপরীতে আটলান্টিক মহাসাগরে একটু একটু করে আয়তন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সুবিন্যস্ত বিশাল জলধারা টিতে জীববৈচিত্রের পরিমাণও সর্বোচ্চ । এতে রয়েছে অসংখ্য রকমের সর্বোচ্চ সামুদ্রিক জীবের বসবাস।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Categories

© All rights reserved © 2019 bdculture
                          কারিগরি সহায়তায় রাফিউল ইসলাম