1. bdculture2020@gmail.com : bdculture :
বিস্ময়কর আরাল সাগর শুকিয়ে গেলো কেন - BD CULTURE
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন

বিস্ময়কর আরাল সাগর শুকিয়ে গেলো কেন

মেফ্তাহুল জান্নাত
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২২ মে, ২০২১
আরাল সাগর শুকিয়ে গেলো কেন
আরাল সাগর
মানুষের অবহেলায় ও কার্যত বিভিন্ন ভুলের খেসারত স্বরুপ প্রকৃতি এবং পৃথিবী সব মিলিয়ে চরম বিপর্যয়ের স্বীকার বহুকাল থেকেই। যুগ যুগ ধরে গড়ে ওটা অপরুপ প্রকৃতি এবং রহস্য মুখর বিস্সয়কর এই পৃথিবীতে অমূল্য সব সম্পদ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এসেছে।প্রকৃতির ধ্বংস ঘটে চলছে বহুকাল ধরেই। যা মানব জীবনের জন্যও হুমকি স্বরুপ। প্রকৃতির সংরক্ষণ এবং সভ্যতার উন্নতির সংযোজন দুটোই মানবকূলের সংরক্ষণের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু ঠিক এই প্রয়োজনীয় দৃষ্টি কিংবা যত্নশীলতার অভাবেই আর্তনাদ করে চলছে পৃথিবীর সব বিস্ময়কর সৃষ্টি এবং মানবকূলের জন্য সৃষ্ট এই রহস্যময় প্রকৃতি।অযুত কালের বহমানতায় আজ সময়ের গতিময়তায় পরিবর্তনশীল হতে হতে আজ হারিয়ে ফেলেছে তার অনেক কিছুই! তা মানুষের অবহেলা এবং ত্রুটির কারণ। নিসন্দেহে বলা চলে।
ঠিক এইরকমই একটি নিদর্শন হচ্ছে “আরাল সাগর”। অবহেলা ও ভ্রান্তির পরাক্রমে তা ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েই চলেছে হাজার লক্ষ বছর আগে থেকেই।
একসময় মধ্য এশীয়ার কাজস্তান এবং উজবেকিস্থান নামক দেশ দুটির বিস্তীর্ণ স্থান জুড়ে বিচরিত ছিল এই বিশাল সাগর।আনুমানিক ৩০ লাখ বছর আগে মধ্য এশীয় বর্তমান কাজস্তান এবং উজবেকস্তান সীমানায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। যার ফলে উক্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় ডিপ্রেশন বা নীল জলাশয়ের সৃষ্টি হয়।এর প্রায় পাঁচ লাখ বছর পর। এর প্রায় পঁচিশ লাখ বছর আগে অন্য একটি নদীর সংমিশ্রণে একটি বিশাল রদের সৃষ্টি করেছিলো।তার কয়েক লাখ বছর পর তার গতিপথ পাল্টে গেলে সৃষ্টি হওয়া সেই রদ টি শুকিয়ে যায়।বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী প্রায় ১ লাখ বছর আগে সেখানে প্রথম মানবজাতির স্থাপত্য হয়েছিল। তবে তারা আধুনিক সভ্যতার মানুষের মতো হোমোস্যাপিয়েন্স ছিলো না বলে ধারণা করেন তারা।ইরেস্ট্রেসি এর প্রজাতি ছিলেন তারা। তা সনাক্ত হয় প্রাচীন কালের একটা মানুষের কঙ্কাল সংগ্রহের মাধ্যমে।আয়তনের ক্ষেত্রে ৬৮ হাজার বর্গমাইল বা সাড়ে তেইশ হাজার বর্গমাইলে পৃথিবীর বৃহত্তর চতুর্থ রদের খেতাব লাভ করেছিলো আরাল সাগর। আরাল শব্দের অর্থ মূলত দিগবুঞ্জের সাগর। তাই স্থানীয় রা এই নামকরণ করেছেন। সাগর হলেও এখানকার মৎস মিঠা হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল।এর লবনাক্ততা সমুদ্রের পানির তিন ভাগের এক ভাগ ছিল। প্রতি লিটার পানিতে লবণের পরিমাণ মাত্র ১১গ্রাম ছিল।সাগর উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষদের জীবিকা সেই মৎস চাষের উপর নির্ভর করতো এবং তারা বেশ স্বাচ্ছন্দে ব্যবসা করে জীবন ধারণ করতেন। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী সেই সময়ের সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস সরকারের লোভ এবং দুর্দশীতায় মূলত এই আরাল সাগর ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছিলো।
আধুনিক যন্ত্রের সমন্বয়ে সাগর উপরুদ্ধ ভরাট করে তুলা ব্যবসা শুরু হয়। একে একে জনবসত গড়ে ওঠে। বিভিন্ন কলকারখানার বর্জ্য কিন্ধিৎ অবশিষ্ট জলাশয়ের অংশে পতিত হয়। ফলে প্রকৃতি দুর্গম হয়ে পরে বায়ুতে তেজস্ক্রিয়তা বহু গুণ বেড়ে যায় এবং মানব অবস্থাের অনুপযুক্ত হয়ে পরে। ক্রমেই অত্যন্ত বিপদের দ্বারে পৌঁছুলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য। অন্যত্র জলাশয়ের পানি সরবরাহের মাধ্যমে সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়।কিন্তু আশাতীত ভাবেই যা ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়ে অতি ক্ষীণ সময়েই জলাশয় টি তার আগের রুপ ধারণ করে।যা পৃথিবীকে অবাক করে দেয়।প্রকৃতি এভাবেই প্রমাণ করে দিয়েছে তার সংরক্ষণের জন্য সামান্য কিছুই প্রয়োজন।সামান্য দৃষ্টিপাত করাতে সেটি নিজেে থেকেই বহুগুণ সমৃদ্ধি লাভ করে শুধুমাত্র মানবকূলের একটু সচেতনতা প্রয়োজন। যার অভাবে উক্ত বৃহৎ সাগরটিই চরম বিপর্যয়ের স্বীকার হয়েছিল আবার একটু যত্নশীলতায় তা অনেক কিছু ফিরিয়ে দিয়েছে যা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা বাঞ্চনীয়।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Categories

© All rights reserved © 2019 bdculture
                          কারিগরি সহায়তায় রাফিউল ইসলাম