1. bdculture2020@gmail.com : bdculture :
জেরুজালেম কি পুড়তেই  থাকবে?  - BD CULTURE
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২১ পূর্বাহ্ন

জেরুজালেম কি পুড়তেই  থাকবে? 

দুলারফিন তাপস
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ মে, ২০২১
মসজিদুল আকসা
মসজিদুল আকসা এতোটা গুরুত্বপূর্ণ?
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যবর্তি স্থানে জেরুজালেম শহরের অবস্থান। জেরুজালেম হচ্ছে একই সঙ্গে মুসলমান, খৃষ্টান ও ইহুদিদের প্রবিত্র তীর্থ স্থান।
১৯ শতকের শেষের দিকে উরোপে ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ বাড়তে থাকলে ইহুদিরা একটি স্বাধীন দেশের আকাঙ্খা করতে থাকে। সে সময় ব্রিটিশরা ইহুদিদের উপনিবেশ গড়ে তুলতে সক্রিয় সাহায্য করতে থাকে।
ইসরায়েল -ফিলিস্তিন দন্দের সুত্রপাত হয় তখন থেকে। ১৯ শতকের শেষের দিকে ফিলিস্তিন ছিল তুরষ্কের অটোম্যান বা ওসমানীয় সামরাজ্যের অংশ। তখন ফিলিস্তিনের মোট জনসংখ্যার ৯৭℅ ছিল মুসলিম ও খৃষ্টান এবং ইহুদি ছিল মাত্র ৩℅। ১৯০৫-১৯১৪ সাল পর্যন্ত ইহুদিদের সংখ্যা বেড়ে যায় প্রায় কয়েকহাজার। পরবর্তীতে ব্রিটিশদের সহযোগিতায় ৩০ বছরে ৬ লক্ষ ইহুদি ফিলিস্তিনে প্রবেশ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোম্যানদের পতনের ফলে  আরবের বেশ কিছু অংশ চলে যায় ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের দখলে।
১৯১৭ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রি জেমস্ বেলফোর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রে একটি ইহুদি ভূখন্ড প্রতিষ্ঠার ঘোষনা দেন। ইতিহাসে এটি বেলফোর ঘোষনা হিসাবে পরিচিত। বেলফোর ঘোষনার পর উরোাপ থেকে এসে বেশকিছু ইহুদি ফিলিস্তিনে বসতি গড়তে থাকে।
১৯১৮ সালে ব্রিটেনের সহযোগিতায় হাগানাহ বাহিনী নামক এক গোপন বাহিনী গঠিত হয়। প্রথম দিকে এদের কাজ ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করা হলেও পরবর্তীতে এরা সন্ত্রাসী বাহিনী হিসাবে পরিচিত হয়। বাড়ি-ঘর ও ক্ষেত খামার দখল করাই ছিল হাগানাহ বাহিনীর কাজ। বর্তমান ইসরায়েলী সেনাবাহিনী হাগানাহ বাহিনীর পরবর্তিত রুপ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের সাধারন পরিষদে ফিলিস্তিন ভূখন্ডকে দ্বিখণ্ডিত করার প্রস্তাব গ্রিহিত হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার ১ চতুর্থ অংশ হয়েও ইহুদিরা পায় মোট ভূমির ৯৭% আর ফিলিস্তিনিরা পায় ৪৩%। তবে প্রস্তাবিত ইহুদি রাষ্ট্রটির উত্তর -পশ্চিম সীমান্ত অর্নিধারিত রাখা হয় যাতে ইহুদিরা সীমানা আরো বাড়াতে পারে। এভাবে জাতিসংঘের একটি অবৈধ ও অযুক্তিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা চুড়ান্ত হলেও উপেক্ষিত থেকে যায় ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠা। এ সিন্ধান্তের পর ফিলিস্তিনে ইহুদিদের নির্যাতন আরো বেড়ে যায়। ইহুদি জঙ্গি দলগুলো জোর-জবস্তি করে মুসলমানদের বাড়ি-ঘর ও ধন-সম্পদ দখল করে নেয়। জাতিসংঘের এই প্রস্তাব গ্রহনের মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে ১৭ হাজার ফিলিস্তিনি মুসলমানদের হত্যা করা হয়। ১৯৪৮ সালের ১২ মে রাত ১২ঃ১ মিনিটে ইহুদিদের নেতা বেনগুনিয়ন ইসরায়েলের স্বাধীনতা ঘোষনা করে এবং এর মাত্র ১০ মিনিট পরেই আমেরিকা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি প্রদান করে তার পর পর ই সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ব্রিটেন ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়। ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পরে ১৯৪৮ সালে শুরু হয় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ। যুদ্ধে ফিলিস্তিনের ৫০০টি গ্রামের মধ্যে ৪০০ টিকে জনশূন্য করে ফেলে ইসরায়েল।
ফিলিস্তিনের যে অংশটুকু দখল করতে পারেনি তা মিশর ও জর্ডান ভাগাভাগি করে নেয়। গাজা উপত্যকা মিশরের অধিনে আসে আর জর্ডান পায় পশ্চিম তীর। আরব-ইসরায়েলের মধ্যে ১৯৫৬,৬৭ ও ১৯৭৩ সালে আরো ৩ টি যুদ্ধ হয়। এসব যুদ্ধেও ফিলিস্তিনের ভাগ্যে দুর্ভোগ ছাড়া আর কিছুই জোটেনি। ইসরায়েল আগ্রাসন সহ্য করতে করতে অবশেষে ফিলিস্তিনিরা ১৯৮৭ সালে শুরু করে’প্রথম ইন্তিফাদা’ যার অর্থ জেগে ওঠা। ১৯৮৮ সালের ১৫ নভেম্বর PLO( Palestine lebaretion Organisation) নেতা ইয়াসির আরাফাত প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা ঘোষনা করে। কিন্তুু তখনও পর্যন্ত কোন ভূখন্ড তাদের দখলে ছিল না। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত প্রথন ইন্তিফাদা কার্যকর ছিল। এর পর ২০০০ সালে শুরু হয় দ্নিতীয় ইন্তিফাদা এটিও ২০০৮ সালে শেষ হয়। ২০০৬ সালের পর থেকে ফিলিস্তিনিরা দুটি প্রথান দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে এদের একটি হলো ফাতা ও অপরটি হলো হামাস। এর মধ্যে ফাতা একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন হলেও হামাসকে অনেকেই সন্ত্রাসী দল হিসাবে চিহ্নিত করে। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে ফিলিস্তিনিদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চলছে অপর দিকে পশ্চিমা মিত্রের সহযোগিতায় দিন দিন অপ্রতিরুদ্ধ হয়ে উঠেছে ইসরায়েল।
বর্তমানে ফিলিস্তিনে ৪৩০ ভবন ধ্বসে পড়েছে, ২১৮ জনের মূত্য হয়েছে। ফিলিস্তিনে ২ বিদেশী কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, ৬ টি হাসপাতালে আহতরা চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। ৫৮ টি স্কুলে অসহায় মানুষেরা অবস্থান নিয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Categories

© All rights reserved © 2019 bdculture
                          কারিগরি সহায়তায় রাফিউল ইসলাম