1. bdculture2020@gmail.com : bdculture :
পবিত্র আল-কোরআন ও হাদীসের আলোকে তাওবাহ - BD CULTURE
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৩৩ অপরাহ্ন

পবিত্র আল-কোরআন ও হাদীসের আলোকে তাওবাহ

মিশকাত রায়হান
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৮ মে, ২০২১
কোরআন ও হাদীসের আলোকে তাওবাহ
ক্ষমা মহান আল্লাহু সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার মহত গুণ। কিন্তু ক্ষমা পেতে হলে মহান আল্লাহু সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার কাছে নিজের অন্যায় ও অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। আর ক্ষমা চাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো তাওবা। তাওবার পর যারা সৎকর্ম করে মানে যারা সত্যিকারের তাওবা বা ভালোকাজের দিকে ফিরে আসে তারাই আল্লাহ তায়ালার প্রিয় বান্দা ও প্রকৃত ক্ষমা পাওয়ার হকদার।

পবিত্র আল-কোরআনের আলোকে তাওবাহ :

মহান আল্লাহু সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা পবিত্র কুরআনের ১৯নং সূরাহ, সূরাহ আল-মারইয়ামের ৬০ নং আয়াতে ইরশাদ করেন, কিন্তু তারা নয় যারা তওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে; তারা তো জান্নাতে প্রবেশ করবে; আর তাদের প্রতি কোন যুলুম করা হবে না। (সূরাহ আল-মারইয়াম আয়াত নং- ৬০)
আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনের ২৫নং সূরাহ, সূরাহ আল-ফুরকানের ৭৯ নং আয়াতে ইরশাদ করেন, কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তত করে এবং দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরাহ আল-ফুরকান আয়াত নং- ৭০)
মহান আল্লাহু সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা পবিত্র কুরআনের ২৮নং সূরাহ, সূরাহ আল-কাসাসের ৬৭ নং আয়াতে ইরশাদ করেন, তবে যে ব্যক্তি তওবা করে ও সৎকাজ করে, সে অবশ্যই সফলকাম হবে। (সূরা আল-কাসাস আয়াত নং- ৬৭)
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের ০৪নং সূরাহ, সূরাহ আন-নিসার ১৭ নং আয়াতে ইরশাদ করেন, অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, রহস্যবিদ।(সূরা আন-নিসা আয়াত নং- ১৭)
একই সূরার ২৭ নং আয়াতে ইরশাদ করেন, আল্লাহ তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হতে চান, এবং যারা কামনা-বাসনার অনুসারী, তারা চায় যে, তোমরা পথ থেকে অনেক দূরে বিচ্যুত হয়ে পড়। (সূরা আন-নিসা আয়াত নং- ২৭)
মহান আল্লাহু সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা পবিত্র কুরআনের ০৫নং সূরাহ, সূরাহ আল-মারইয়ামের ৩৯ নং আয়াতে ইরশাদ করেন, অতঃপর যে তওবা করে স্বীয় অত্যাচারের পর এবং সংশোধিত হয়, নিশ্চয় আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। (সূরা আল-মায়েদাহ আয়াত নং- ৩৯)

হাদীসের আলোকে তাওবাহ :

জামে-উত তিরমিযির ৩৫৪০ নং হাদীসে ইরশাদ হচ্ছে, হে বনি আদম আকাশ চুম্বি পাপ করার পরও তুমি যদি আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর অবশ্যই আমি ক্ষমা করে দিব। (তিরমিযি হাদীস নং- ৩৫৪০)
সহীহ মুসলিম ৮ম খন্ডের ৬৮৪৮ নং হাদীসে ইরশাদ হয়েছে, হযরত হারিস ইবনু সুওয়াইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) অসুস্থ ছিলেন। তাঁর সেবা করার জন্য কোন এক সময় আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তখন তিনি আমাকে দু’টি হাদীস বর্ণনা করলেন। একটি নিজের পক্ষ হতে এবং অন্যটি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মু’মিন বান্দার তাওবার কারণে ঐ ব্যক্তির চেয়েও অধিক আনন্দিত হন, যে লোক ছায়া-পানিহীন আশঙ্কাপূর্ণ বিজন মাঠে ঘুমিয়ে পড়ে এবং তার সাথে থাকে খাদ্য পানীয় সহ একটি সওয়ারী। এরপর ঘুম হতে সজাগ হয়ে দেখে যে, সওয়ারী কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। তারপর সে সেটি খুঁজতে খুঁজতে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ল এবং বলে, আমি আমার পূর্বের জায়গায় গিয়ে চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে মারা যাব। (এ কথা বলে) সে মৃত্যুর জন্য বাহুতে মাথা রাখল। কিছুক্ষণ পর জাগ্রত হয়ে সে দেখল, পানাহার সামগ্রী বহনকারী সওয়ারীটি তার কাছে। (সওয়ারী এবং পানাহার সামগ্রী পেয়ে) লোকটি যে পরিমাণ আনন্দিত হয়, মু’মিন বান্দার তাওবার কারণে আল্লাহ তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হন। (সহীহ মুসলিম ৮ম খন্ড, হাদীস নং- ৬৮৪৮)
সহীহ মুসলিম ৮ম খন্ডের ৬৮৯৯ নং হাদীসে ইরশাদ হচ্ছে, হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ‘হদ্দ্‌’ যোগ্য অপরাধ করে ফেলেছি। অতএব আপনি আমার উপর তা’ প্রয়োগ করুন। রাবী বলেন, তখন সলাতের সময় হলো এবং লোকটি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সলাত আদায় করল। সলাত আদায় হয়ে গেলে লোকটি বলল, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি ‘হদ্দ্‌’ যোগ্য অন্যায় করে ফেলেছি। তাই আপনি আল-কুরআনের বিধানানুসারে আমার উপর ‘হদ্দ্‌’ কার্যকর করুন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি কি আমাদের সাথে সলাত আদায় করছিলে? লোকটি বলল, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাকে মাফ করা হয়েছে। (সহীহ মুসলিম ৮ম খন্ড হাদীস নং- ৬৮৯৯)

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Categories

© All rights reserved © 2019 bdculture
                          কারিগরি সহায়তায় রাফিউল ইসলাম