1. bdculture2020@gmail.com : bdculture :
ইফতারে রকমারি খাবারে কোন খাবার কতটা স্বাস্থ্য উপযোগি? - BD CULTURE
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন

ইফতারে রকমারি খাবারে কোন খাবার কতটা স্বাস্থ্য উপযোগি?

মেফ্তাহুল জান্নাত
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১
রমযান মাসে ইফতারের ক্ষেত্রে যেন খাবার উৎসবের ধুম পড়ে যায়। একরকম খাবারের প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে রোজাদারগণ।বিভিন্ন রকমারি খাবারের  আয়োজনের মধ্যে বিশেষ করে ভাজা-পোড়া গুরুপাক খাবার বেগুনি,আলুর চপ,পিয়াজু, ডিমের চপ,ছোলা,মুড়ি,বুন্দিয়া,জিলাপি, তেহারি,হালিম,বিরিয়ানি, মাংস ইত্যাদি। বিকেল থেকে শুরু হয় রান্নার ধুম।হোটেল- রেস্তোরাঁ কিংবা বাড়িতে।এছাড়া বাহিরে অলিগলিতে বাহারি রংয়ের শরবত তো আছেই।
অনেকে যেন সারাদিনের খাবার একবারে উদরপূর্তি করে খেয়ে নেন।কিন্তু রোজায় যেহেতু অভুক্ত থাকা হয়  পেট খালি থাকে তাই পেটে প্রচুর গ্যাস্ট্রিক সৃষ্টি হয়।ইফতারিতে একবারে বেশি খাবার খেয়ে ফেলা স্বাস্থ্যের জন্য অনুচিত।প্রথমে লেবুর শরবত কিংবা এক গ্লাস পানি খাওয়া যেতে পারে।তারপর পুষ্টিজাতীয় হালকা কিছু খেয়ে একটু বিলম্ব করে অন্যান্য খাবার খাওয়া উচিত।বেশি গুরুপাক খাবারে আলসার সহ হজমে নানারকম সমস্যা সৃষ্টি হবে।তাই ফলমূল, শাকসবজি এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
রোজা থেকে শরীরে পানির প্রচুর ঘাটতি দেখা দেয়।এক্ষেত্রে ইফতারের পর থেকে সেহেরি খাবার সময় পর্যন্ত ৮-১০ গ্লাস পানি পার করতে হবে।এক থেকে দেড় লিটার পানি পান করা উচিত।অনেকেই ইফতার থেকে শুরু করে তিনবার খাবারের সময়ই মাংস খেয়ে থাকেন।কিন্তু পুরো সময়ের মাঝে একবার অন্তত খাবারের তালিকায় হালকা ঝোল এক টুকরো মাছ রাখা উচিত।অনেকে পানির অভাব পূরণ করতে বিভিন্ন রকমের ড্রিংকস, গ্লুকোজ কিংবা অন্যান্য কোমল পানীয় খেয়ে থাকে কিন্তু শুধুমাত্র স্বচ্ছ পানি অধিক পরিমাণে পান করা বেশি উপযোগী। বাহিরের খাবার এ সময় বর্জন করা উত্তম।এক তেলে একাধিকবার খাবার ভাজার কারণে তাতে কয়েক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরি হয় যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক।
এছাড়া বাহিরের বিভিন্ন রং মেশানো পানীয় বিক্রি হয় তা বর্জনীয়। বিভিন্ন রকমের পক্রিয়াজাত কমল পানীয় যা আমরা সচারাচর পান করে থাকি তা সবসময়ের জন্য বাদ দিতে পারলে বেশি ভালো।কেননা এতে অনিদ্রাসহ হৃদরোগ, এসিডিটি,খাবারে অরুচি, গ্যাস্ট্রিক আলসারের সম্ভাবনা থাকে।ইফতারে নির্ধারিত কিছু সুস্বাস্থ্যকর খাবার এবং সেহেরিতে পরিমাণ মতো খাবার রাখা উচিত।আবার সেহেরিতে না খেয়ে থাকলেও বিরুপ সমস্যার সৃষ্টি হবে।তাই হালকা এবং  সুস্বাদু তরকারি যেমন বিভিন্ন শাকসবজি, লাউ,মিষ্টিকুমড়া,পটল,কচু,লাউশাক,মাছের তরকারি উত্তম। ডালডার পরিবর্তে সয়াবিন তেল বেশি উপযোগী। অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবারে হজমের জন্য অনেক সমস্যা দেখা দেয়।মূলত একসাথে বেশি খাবার না খেয়ে কিছুক্ষণ পরপর খাওয়া যেতে পারে এবং আবশ্যকিয় ভাবে প্রচুর পরিমানে পানি পান জরুরি।অন্যান্য পানীয় দ্বারা পানির ঘাটতি পূরণ হবে না।রোজ ওয়াটার, লেমন ওয়াটার ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের পানীয় কে অনেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থকেন।ফ্রেস পানি এক্ষেত্রে অত্যাধিক কার্যকর।এছাড়া গরমের কারণে বেশি দেখা যায় হজমের সমস্যা। ইফতারের পর থেকে সেহেরির খাবারের সময়  পর্যন্ত তাই বিবেচনা করে খাওয়া এবং পানির প্রচুর ঘাটতি হওয়ায় এ বিষয়ে লক্ষ্য রাখা অপরিহার্য।
চা কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।চা কফিতে নেশার সৃষ্টি হওয়ায় হঠাৎ বর্জন করলে মেজাজ খিটখিটে সহ বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। রোজার সময় দিনের বেলা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে শরীর,মস্তিষ্ক ও স্নায়ুকোষ তাৎক্ষণিকভাবে শক্তির জোগান চায়।তাই ইফতারের সময় খাবার সুষম,সুপাচ্য সহজ ও স্বাস্থ্যকর হওয়া চাই।সারাদিন খেতে পারবে না বলে সেহেরিতে উদরপূর্তি করে খান অনেকেই। এক্ষেত্রে পেটের এক চতুর্থাংশ খালি রাখতে হবে।ইফতারে প্রথমে দুই এক ঢোক পানি খেয়ে ফলের শরবত ও খেজুর,চিঁড়া, জাউ এ ধরনের খাবার খাওয়া যেতে পারে।মিষ্টিজাতীয় খাবারের মধ্যে শরবত কিংবা অন্যান্য খাবারে চিনি আবশ্যিকয় ভাবে বর্জনীয়। চিনি দ্রুত রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয় যা বিরুপ প্রভাব ফেলে।তবে খেজুর এবং খোরমা অবশ্যই খাওয়া যেতে পারে।এতে বিভিন্ন ধরনের শর্করা জাতীয় উপাদান রয়েছে যা সারাদিন না খেয়ে থাকার পর অত্যন্ত উপকারী এবং ঘাটতি পূরণ করতে সহায়তা করে।সারাদিনের পানির ঘাটতি থাকায় উক্ত সময়ের মধ্যে সেই পরিমাণ পানি পান করতে হবে।পরিশেষে বলা যায় – পুষ্টিগুণ ঠিক রেখে সঠিকভাবে খাদ্য গ্রহণ এবং সুস্বাদু খাবারে সচেতনতা অতি গুরুত্বপূর্ণ।এসব মেনে চললে সুস্বাস্থ্যকর হবে রোজাদারের জন্য রমজানের সময়টি।সুস্বাস্থ্যের জন্য এ সময় রোজাদার দের খাবার ব্যাপারে সচেতন থাকা আবশ্যক।
 বিডিকালচার২৪.কম। 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Categories

© All rights reserved © 2019 bdculture
                          কারিগরি সহায়তায় রাফিউল ইসলাম